শ্বেতা!
শব্দটি শ্রবণের পর মাথায় আহরিত ভাবনার প্রতিফলন কি বলো তো?
না! আমি কোনো দেবীর পুরাকীর্তি বা গুণবিচারে আসিনাই।
আবার কোনো ব্যক্তি নামের ইতিহাস পঠনেও ইচ্ছুক নই..
আমি এসেছি শব্দটির মাহাত্ম্য উদঘাটনে
আমি বলছি বর্ণের কথা, সাদা, শুভ্র বা শ্বেতবর্ণের
আদৌও কি কখনও কেউ ভেবেছি এই বর্ণের মাহাত্ম্যের শুভ্রতা?
হয়তো কেউ করেছি, অনেক ভেবেছি-
কখনও বা চিন্তা গুলো আড়ালে হারিয়েছে।
জীবনের শুরু, জীবনকাল এবং শেষ –
যেই বর্ণটির সাথে যুক্ত, সেই বর্ণ নিয়ে না বলিলে চলে বলুন?
এসো তবে জাতি অবগত হই
যেই বর্ণেই জীবনের প্রভাত ফেরিতে ঘুরেছি মোরা বার বার
সেই বর্ণেই হবে সন্ধ্যার মতো সূর্যের অস্তমান তোমার
এই বর্ণেই চলিবে পথ, সেই পথই তোমার ধূলির রথ
এই বর্ণের স্নিগ্ধতায় পেয়েছি মোরা মায়ের ছোয়া
এই বর্ণেই ঋণী তো পুরো জগৎ ভ্রাতা
এই বর্ণেই আছে মিশে মাতৃদুগ্ধের কথা..
অমৃত যে কতো মধুময়, মাতৃদুগ্ধ পানে তা জানা যায়
মাতৃদুগ্ধ থেকেই যে আমাদের জীবনামৃত প্রাপ্ত
তা আর কারোই নয় অনাগত।
শ্রদ্ধা করি গো মায়ের
শ্বেতা সে দুগ্ধ পানে দেখিলাম জগৎ মোদের।
পরিচয় হয় যে আরো অন্যরূপে,
সৈনিক রূপে পাহারাদার সে যে মানবদেহের
হ্যা! আমি শ্বেতকণিকার কথা বলছি,
যার পরাক্রমে মোরা থাকি অক্ষয়।
যার সংকটে হয় মোদের জীবন সংকট –
যার সুস্থতায় বয়ে চলে মোদের জীবনরথ।
এবার তবে চিরবিদায় এর কথা বলি,
এই সে বর্ণ যা আনে বেদনার সঙ্গ
বিধবার গায়ের অমানানসয়ী তরঙ্গ
এই বর্ণে আসে কখনও বা হাসির বাহার
খ্রিষ্টীয় বউয়ের বিয়ের পোশাকে ভালোবাসার আবদার
এ সাজায় কখনও বা চিরবিদায় এর সজ্জায়-
সাদা কাফনে মাটির কবলে
শ্বেতা কখনও মেঘ রূপে আকাশের অলংকার
কখনও বা দুধ রূপে মানুষের পুষ্টিগুনের আহার।।
এভাবেই তো সে ভূমিকা রাখে মহৎ তার প্রতিদান..
মানুষের জীবনে রেখে যাবে অনুদানের রহস্যের জলছাপ।