Home » অনাহারী

অনাহারী

মৃগয়া

by sahitya
এই দীঘল রাস্তার সরু মোড়ে মোড়ে যত সুউচ্চ বাড়ি গুলি,
সন্ধে হলে গগনচুম্বীবে এই অট্টালিকা গুলি,
পান্ডুর চাঁদ পড়িবে ঢুলিয়া ভোরের রবি উঠিবে হাসিয়া,
সুরু আর বড় চৌরাস্তার মোড়ে,
কত কোলাহল কত জনবল এই শহরে ঘোরে,
এই শহরে দিনে রাত্তিরে কত্তো সওদা চলে,
এই শহরে শিশুটি ঘুমায় ধুলো রাস্তার পরে,
এই শহরে ই মৃত শিশু ডাস্টবিনে থাকে অবহেলায়,
এই যে শহর মৃতের মতো  ঘুমায় গভীর তন্দ্রায়,
অবুঝ  শিশুটি মরা মায়ের বক্ষ চুম্বন করিতেছে ক্রন্দন করি,
এই শহরের আকাশ নাচিছে ঘুমে জোনাক দীপের আলোয়
ছোট ছেলেটার ঘুম হারা চোখ  কাঁদিছে ক্ষণে ক্ষণে,
মায়ের বুকে উষর মরু বহিছে না আর  গঙ্গা ধারা,
ক্ষুদা পীড়নে আসে নাই  চোখে ঘুমের ঘোরের ধারা।
কাঁদিয়া কহিছে, কি ভাষা মুখে আড়ষ্ট কন্ঠ নালি
অবুঝ দুগ্ধ মুখে ফোঁটে নাই এখনো মাতৃ মুখের বুলি,
উলঙ্গ বক্ষ সমস্ত বঙ্গ টেকনাফ তেঁতুলিয়া।
এলোচুল বেয়ে রাত নামিয়েছে কাকের কায়া লইয়া।
চক্ষু তাহার মৃত ঘুমে ক্ষুদার্ত নাট্যমঞ্চ,
বিবেকহীন সমাজ বিলাপ করে নি’ কো
হায়ে নিলজ্জ-
রঙ্গ দেখিয়া হাসিছে সমাজ হাসিছে ডাকিনী যোগিনী,
রহিয়া রহিয়া আকাশ ভুড়িয়া নগরীর গায়ের বাতাসে ছেদিয়া ভাসিছে মড়ার গন্ধ-
তালে তালে যেন দুলিয়া উঠিছে স্বর্গ পাতাল মর্ত্য
 আকাশের তারা অপ্সরা হয়ে নাচিছে ভীষন মত্ত
মৃত জননী শব লয়ে শিশুটি খেলায় মগ্ন,
হৃদয়ের গোরস্থানে কবর খুড়িয়া কত যে পিচাশ নিত্য হাসিয়া
শ্মশান ঘাটের  দৈত্য দানব
উল্লাসেতে মাতি
 হুক্কা টানিয়া ধরনী ভরিয়া আযানের সুরে মাতি
এই শহরের কুজ্ঝটিপথে গোপন গল্প
অল্প চয়নে
ইতিকথা হয় রাতের বদলে।
যান্ত্রিকতার এই শহরে  মৃত আঁধারিয়ায়
  আযান হাঁকে
 সাক্ষী চাঁদ জ্বলে জ্বলে মিছে ছাইয়ে থালা ভরে।
ক্ষুদার থালায় অনাহারী হয়
 উপোস পূজার ভোগে
জননী আজ শ্মশানভুমে বেওয়ারিশ হয়ে  আছে পড়ি
আযানের গান থামলে শেষে,এসো মোনাজাত ধরি
শত কলঙ্কের মোচন রবে
মন্ত্রে শুদ্ধ করি
লাসের কবরে হামাগুড়ি দেওয়া ছোট শিশুটি এখনো  খুঁজিছে খাবারের সন্ধান করি
এই শহরে মোড়ে মোড়ে কতো গল্প হয় যে বাসি !
মধু মন্দির গির্জা মসজিদ কে করে দরশন।
ক্ষুদার অন্ন লেখা নাই কেবা হিন্দু  মুসলিম
ক্ষুদার অন্নে ভরিয়া দাও যত আছে অনাহারী,
যমের সাথে যুদ্ধ করিয়া চলো বিজয় ছিনিয়া আনি।

Related Posts

error: Content is protected !!